পুরুলিয়া জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিজস্ব সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্যের কথা তুলে ধরে পুরুলিয়া জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির চেয়ারম্যান তথা জেলাশাসক সুধীর কোন্থম জানান, এই জেলার প্রকৃতি ও ল্যান্ডস্কেপের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিছু বিশেষ উৎপাদিত সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী খাবার ও হস্তশিল্প, যা পুরুলিয়াকে আলাদা করে চেনায়। পর্যটকরা যাতে এক জায়গাতেই এই সমস্ত স্থানীয় পণ্য উপভোগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই চারটি ভ্রাম্যমান স্টল চালু করা হয়েছে।
পুরুলিয়া জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এই চারটি ভ্রাম্যমান স্টল অযোধ্যা হিলটপ, বামনি ফলস, আপার ড্যাম এবং ছৌ মুখোশের জন্য বিখ্যাত চড়িদা গ্রামে স্থাপন করা হয়েছে।
পুরুলিয়া জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির উদ্যোগে তাদের ফার্মার্স প্রডিউসার কোম্পানির মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে উৎপাদিত খাবার ও হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। সম্পূর্ণভাবে পুরুলিয়া জেলার কাঁচামাল ব্যবহার করেই এই উৎপাদন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
ভ্রাম্যমান আউটলেটগুলিতে পর্যটকদের জন্য থাকছে সাধারণ মাশরুমের পাশাপাশি দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য ড্রাই মাশরুম। এছাড়াও মিলবে মাশরুমের আচার ও কাসুন্দি। গ্রামবাংলার স্বাদ ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে মা-ঠাকুমার হাতে তৈরি কলাই ও মসুর ডালের বড়ি, গুঞ্জা তেল এবং খাঁটি সর্ষের তেলও রাখা হয়েছে এই স্টলগুলিতে। বাজারমূল্যের তুলনায় সামান্য কম দামে এই সমস্ত পণ্য পর্যটকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পুরুলিয়ায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবার ও হস্তশিল্প সহজলভ্য করতে ভ্রাম্যমান আউটলেট চালু করেছে পুরুলিয়া জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি। সমিতির সচিব আশিক ইকবাল মণ্ডল জানান, বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা পণ্য খুঁজে না পেয়ে অনেক পর্যটকই হতাশ হন। সেই সমস্যা দূর করতেই এই উদ্যোগ, যার মাধ্যমে পর্যটকদের হাতে পুরুলিয়ার সম্পদ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আগামী দিনে জেলার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের সাইট সিয়িং এলাকাতেও এই ভ্রাম্যমান আউটলেট ঘুরবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে চালু চারটি স্টলের মধ্যে আড়শা গ্রিন ফিল্ড ও অযোধ্যা অর্গানিক নামে দু’টি ফার্মার্স প্রডিউসার কোম্পানি মোবাইল আউটলেটের দায়িত্বে রয়েছে। এই আউটলেটগুলিতে খেজুর গুড়ের পাটালি (১ কেজি) ২৪০ টাকা, খেজুর ঝোলা গুড় (কেজি প্রতি) ১৪০ টাকা, গুঞ্জা তেল (১ লিটার) ২৬০ টাকা, মা-ঠাকুমার হাতে তৈরি কলাই ডালের বড়ি (১ কেজি) ৩০০ টাকা এবং খাঁটি সর্ষের তেল (১ লিটার) ২৬০ টাকায় মিলবে। পাশাপাশি ৫০০ টাকায় দুর্গা মুখোশ ও কেজি প্রতি ৫০ টাকায় জৈব সারও পাওয়া যাবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন